কোনটি অশুদ্ধ?-

Updated: 5 months ago
  • বুদ্ধিজীবী
  • অন্তর্লীন
  • উপাচার
  • তেজস্ক্রিয়তা
1k
ব্যাখ্যাঃ

প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে কোনটি অশুদ্ধ বানান, তা নির্ণয় করতে হবে। নিচে প্রতিটি বিকল্পের বানান শুদ্ধতা ও সম্ভাব্য ভুল নিয়ে আলোচনা করা হলো:

        
  • ১. বুদ্ধিজীবী: এটি একটি শুদ্ধ বানান। 'বুদ্ধি' (জ্ঞান) এবং 'জীবী' (যে জীবন ধারণ করে বা জীবিকা নির্বাহ করে) শব্দ দুটির সমন্বয়ে গঠিত। 'জীবী' প্রত্যয়টি দীর্ঘ ঈ-কার (ী) যুক্ত হয়, যেমন - শ্রমজীবী, পেশাজীবী। অতএব, 'বুদ্ধিজীবী' বানানটি সঠিক।
  •     
  • ২. অন্তর্লীন: এটিও একটি শুদ্ধ বানান। 'অন্তঃ' (ভিতরে) এবং 'লীন' (মগ্ন) শব্দ দুটি সন্ধির মাধ্যমে যুক্ত হয়ে 'অন্তর্লীন' শব্দটি গঠিত হয়েছে, যার অর্থ ভিতরে লুক্কায়িত বা নিহিত। বিসর্গ সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী বিসর্গ 'র্' তে রূপান্তরিত হয়ে 'র্লীন' হয়েছে।
  •     
  • ৩. উপাচার: প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে এটিই অশুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত। যদিও 'উপাচার' (যার অর্থ পূজা-আর্চনায় ব্যবহৃত দ্রব্য, প্রথা, ব্যবহার) একটি শুদ্ধ শব্দ, তবে বাংলা বানানে 'উপচার' (যার অর্থ সেবা, শুশ্রূষা, চিকিৎসা, ঔষধ, সৌজন্য) নামে আরও একটি শব্দ প্রচলিত আছে। 'উপচার' এবং 'উপাচার' শব্দ দুটির অর্থের পার্থক্য রয়েছে। প্রায়শই, বানান শুদ্ধি পরীক্ষায় এমন শব্দ ব্যবহার করা হয় যেখানে 'আ' বা 'অ' স্বরধ্বনির ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থের পরিবর্তন ঘটে। যদি প্রশ্নটি 'সেবা' বা 'চিকিৎসা' অর্থে কোনো শব্দ জানতে চেয়ে থাকে, তবে 'উপাচার' ভুল। বানান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে, যেখানে একটি সুস্পষ্ট ভুল না থেকে দুটি ভিন্ন শব্দের মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়, সেখানে সাধারণত যে শব্দটি তুলনামূলকভাবে কম ব্যবহৃত হয় বা যেটির একটি সাধারণ প্রতিশব্দ রয়েছে, সেটিকে অশুদ্ধ হিসেবে ধরা হয় যদি অন্য বিকল্পগুলো নিশ্ছিদ্রভাবে শুদ্ধ হয়। এক্ষেত্রে, 'উপচার' (চিকিৎসা, সেবা) অর্থের জন্য 'উপাচার' ব্যবহার করলে তা ভুল হবে। তাই, এই ধরনের প্রশ্নের জন্য 'উপাচার' কে অশুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
  •     
  • ৪. তেজস্ক্রিয়তা: এটি একটি শুদ্ধ বানান। 'তেজস্ক্রিয়' (তেজ বিকিরণকারী) শব্দের সাথে 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'তেজস্ক্রিয়তা' (radioactivity) শব্দটি গঠিত হয়েছে। এটি বৈজ্ঞানিক পরিভাষা এবং এর বানান সুপ্রতিষ্ঠিত ও সঠিক।

উপরে উল্লিখিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদিও 'উপাচার' একটি নির্দিষ্ট অর্থে শুদ্ধ শব্দ, তবে বানান শুদ্ধি পরীক্ষার প্রেক্ষাপটে এবং অন্যান্য বিকল্পের নিশ্ছিদ্র শুদ্ধতা বিবেচনায়, 'উপচার' ও 'উপাচার' এর মধ্যেকার পার্থক্য এবং এই দুটি শব্দের ভুল প্রয়োগের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে 'উপাচার' কে অশুদ্ধ বানান হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে।


বিস্তারিত সমাধান:

শুদ্ধ বানানের নির্ণয়ে প্রত্যেকটি শব্দের গঠন এবং ব্যবহারিক দিক বিবেচনা করা জরুরি।

        
  • বুদ্ধিজীবী: 'বুদ্ধি' একটি বিশেষ্য পদ এবং 'জীবী' একটি প্রত্যয়, যা জীবিকা বা জীবনধারণ বোঝায়। যেমন: কৃষিজীবী, শ্রমজীবী। 'জীবী' প্রত্যয়টি দীর্ঘ ঈ-কার (ী) দিয়ে লেখা হয়। সুতরাং, 'বুদ্ধিজীবী' সঠিক বানান।
  •     
  • অন্তর্লীন: এটি 'অন্তঃ' এবং 'লীন' শব্দের বিসর্গ সন্ধির ফল। 'অন্তঃ + লীন = অন্তর্লীন'। বিসর্গ 'র্' তে পরিণত হয় এবং তা পরবর্তী ব্যঞ্জনের উপর রেফ হিসেবে বসে বা লীন হলে তার সাথে যুক্ত হয়। এখানে 'র্লীন' রূপটি সঠিক।
  •     
  • তেজস্ক্রিয়তা: 'তেজস্ক্রিয়' (adjective) শব্দের সাথে 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হয়ে 'তেজস্ক্রিয়তা' (noun) শব্দটি গঠিত হয়। 'তেজঃ' (বিসর্গ সন্ধি) এবং 'ক্রিয়া' থেকে 'তেজস্ক্রিয়' এসেছে। এর বানান সুনির্দিষ্ট এবং সঠিক।
  •     
  • উপাচার: এই শব্দটি নিয়েই সম্ভাব্য বিভ্রান্তি। 'উপাচার' একটি সঠিক শব্দ যার অর্থ - পূজা-আর্চনার সামগ্রী বা রীতি, আচার-ব্যবহার, রীতি-নীতি ইত্যাদি। যেমন: "পূজার উপাচার"। কিন্তু 'উপচার' নামেও একটি শব্দ আছে, যার অর্থ - সেবা, চিকিৎসা, শুশ্রূষা, ঔষধ, প্রীতিবিনিময়। বাংলা ব্যাকরণে অনেক সময় এমন বানান দেওয়া হয় যা অর্থের দিক থেকে ভিন্ন হলেও ধ্বনির দিক থেকে কাছাকাছি। এক্ষেত্রে 'আ' স্বরধ্বনিটির উপস্থিতি 'উপাচার' এবং 'উপচার' এর মধ্যে পার্থক্য গড়ে তোলে। যদি প্রশ্নকর্তা 'উপচার' (যেমন - রোগের উপচার) অর্থে শব্দটি জানতে চেয়ে থাকেন, তবে 'উপাচার' বানানটি অশুদ্ধ হবে। যেহেতু প্রশ্নে কোনো নির্দিষ্ট প্রসঙ্গ দেওয়া নেই, এবং অন্যান্য বানানগুলি নির্দ্বিধায় শুদ্ধ, তাই 'উপাচার' কে প্রায়শই এই ধরনের প্রশ্নে ভুল বানান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যেখানে 'উপচার' শব্দটির সাথে এর বিভ্রান্তি ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। এটি বানানের সূক্ষ্ম ভুল বা শব্দচয়নের ভুল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অতএব, 'উপাচার' বিকল্পটিকে অশুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করা হলো, কারণ এটি 'উপচার' শব্দটির সাথে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং এর অর্থের পার্থক্য বানানের ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য ভুল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago

ভাষা হচ্ছে বহমান নদীর মতো, যা নিরন্তর বয়ে চলেছে নানা যৌক্তিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। তাই বাংলা ভাষার শুদ্ধ প্রয়োগ তথা অপপ্রয়োগ থেকে মুক্ত থাকার জন্য দরকার ভাষার উপর পরিপূর্ণ জ্ঞান। ইংরেজ সময়কালের বা পাকিস্তানি শাসনামলের মুদ্রা যেমন একালে অচল, তেমনি ইংরেজ-পাকিস্তানি আমল তো বটেই, এমন কি আশি বা নব্বই দশকের কিছু কিছু বানানও আজকাল পরিত্যক্ত হয়েছে।

বাংলা পৃথিবীর একটি মর্যাদাসম্পন্ন ভাষা। ২১ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়: অথচ খোদ বাংলাদেশেই সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন যেমন হয়নি, মর্যাদাও তেমন দেওয়া হয় না। সবচেয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা যায় বানান ও উচ্চারণে, যা রীতিমতো পীড়াদায়ক। সাহিত্যকর্মের বাইরে পোস্টারে, বিজ্ঞাপনে, সাইনবোর্ডে, সংবাদপত্রের পাতায়, বেতার-টেলিভিশনে এই ভুলের ছড়াছড়ি। বাংলা ভাষায় ভুলের সীমাহীন যে নৈরাজ্য চলছে, তাতে কেবল ভাষার প্রতি অবহেলাই প্রকাশ পায় না, ভাষার নিয়ম-শৃঙ্খলা সম্পর্কে বিপুল অজ্ঞতাও প্রকট হয়ে দেখা দেয়।

ভাষাজ্ঞান এবং বানান পরিবর্তনের চলমান ধারার সাথে সংলগ্ন থাকতে পারলে, ভাষার শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটানো সম্ভবপর হবে। উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করা হলোঃ

ঈদ, নবী, পরী, পীর, পূর্ব, বীমা, রানী, লীগ, শহীদ শব্দগুলোর বানান কিন্তু অশুদ্ধ। শুদ্ধ বানানগুলো অশুদ্ধ মনে হওয়ার কারণ হচ্ছে এ বানানগুলো বিভিন্ন সরলীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংস্কার করে গৃহীত হয়েছে। পুরনো বানানগুলো যেহেতু দীর্ঘদিন প্রচলিত ছিল, তাই সেগুলো এখনো চোখকে বিভ্রান্ত করতে চায়। এ নিয়ে যে দ্বিধা, তা দূর হতে পারে শুধু একটি নিয়ম জানা থাকলে। এ শব্দগুলোর শুদ্ধরূপের নিয়মটি হলো:

  • যে শব্দটি তৎসম নয় অর্থাৎ সংস্কৃত নয়, সে শব্দটির বানানে কোথাও ঈ-কার, উ-কার দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে সর্বদাই ই- কার, উ- কার বসবে। যেমন- ইদ, নবি, পরি, পির, পুব, বিমা, রানি, লিগ, শহিদ ইত্যাদি। এখানে ই-কার, উ-কার বসার কারণ হলো যে, এ শব্দগুলোর কোনোটিই সংস্কৃত নয়। পূর্বে এ বানানগুলোতে ঈ-কার, উ-কার বসতো, বর্তমানে বানান পরিমার্জন করে সরল করা হয়েছে।

নিচে প্রয়োগ-অপপ্রয়োগের বিস্তারিত বর্ণনা উদাহরণসহ আলোচনা করা হলো:

১. ই-কার / ঈ- কার এর প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ: ১৯৮৮ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বাংলা বানানের নিয়মের একটি খসড়া প্রস্তুত করে এবং ১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রণয়ন করে। উভয় নিয়মেই যাবতীয় অতৎসম (অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি) শব্দে কেবল হ্রস্বধ্বনি (ই, ই- কার, উ. উ- কার) ব্যবহারের সুপারিশ করেছে। নিম্নে এর কিছু ব্যবহার তুলে ধরা হলো :

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

ঈদইদএজেন্সীএজেন্সি
একাডেমীএকাডেমিকাজীকাজি
কলোনীকলোনিকোরবানীকোরবানি
কেরানীকেরানিকোম্পানীকোম্পানি
গ্যালারীগ্যালারিগরীবগরিব
গীটারগিটারচাকরীচাকরি
জরুরীজরুরিজানুয়ারীজানুয়ারি
টিউশনীটিউশনিডায়েরীডায়েরি
ডিগ্রীডিগ্রিতসবীতসবি
দরদীদরদিনবীনবি
নানীনানিনেভীনেভি
নার্সারীনার্সারিবীমাবিমা
ভাবীভাবিমামীমামি
রেফারীরেফারিলীগলিগ
লটারীলটারিলাইব্রেরীলাইব্রেরি
শাশুড়ীশাশুড়িল্যাবরেটরীল্যাবরেটরি
শহীদশহিদসতীনসতিন
সরকারীসরকারিসীলমোহরসিলমোহর
সেক্রেটারীসেক্রেটারিহাজীহাজি

ই-কার যুক্ত শব্দ:

অগ্নিবীণাঅধিকারিণীটিপ্পনীতপস্বিনী
প্রাণিবিদ্যাপ্রতিদ্বন্দ্বিতাপ্রণয়িনীপ্রতিযোগিতা
প্রাণিবাচকপুনর্মিলনীভবিষ্যদ্বাণীমন্ত্রিপরিষদ
শিঞ্জিনীসহযোগিতাসহপাঠিনীস্থায়িত্ব

ঈ-কার যুক্ত শব্দ:

অঙ্গীকারঅন্তরীণঅলীকঅধীন
আভীরআশীর্বাদঈপ্সাঈপ্সিত
ঈর্ষাঈষৎউড্ডীনউদীচী
উড়িয়া/উড়ীয়াউন্মীলনএকান্নবর্তীকালীন
কৃষিজীবীকীর্তিকীর্তনকিরীট
ক্ষীণজীবীক্ষুৎপীড়িতগরীয়সীগীতিকা
গরীয়ানগীতাঞ্জলিগীষ্পতিগ্রীষ্ম
চীনচীরটীকাতীক্ষ্ণ
তরণীতীব্রদিলীপদীপ্ত
দধীচিদ্বিতীয়দ্বীপ (দ্বিপ-হস্তী)নিপীড়িত
নিমীলিতনিরীহনিশীথিনীনীচ
নিবীতনীরবনীরন্ধ্রপীড়া
পরীক্ষাপ্রতীকপ্রতীচ্যপীযুষ
পিপীলিকাপ্রতীক্ষাপ্রতীতিপ্রতীয়মান
প্রীতপ্রবীণবল্মীকবাণী
বিপরীতবীথিবীভৎসব্রীহি
বীচিবিবাদীবীরবেণী
ব্যতীতভীতভীমভাগীরথী
ভীষণমরীচিকাশীকরশীতাতপ
শরীরশ্রীপদশীঘ্রশীর্ণ
শারীরিকসুশ্রীসম্মুখীনসমীপ
সমীচীনসরীসৃপসমীহসীমন্ত

২.অপপ্রয়োগের কারণ যখন বিশেষণ দ্বিত্ব: বিশেষণ জাতীয় পদের সঙ্গে যদি পুনরায় বিশেষণবাচক উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করা হয়, তাহলে যেসব শব্দ গঠিত হয় তা ব্যাকরণ সম্মত নয়। তথাকথিত এই দূষিত শব্দগুলো অপপ্রয়োগের ফলে সৃষ্ট। যেমন-

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

সকাতরকাতরসবিনয়পূর্বকবিনয়পূর্বক
সকৃতজ্ঞকৃতজ্ঞসানন্দিতসানন্দ
সলজ্জিতলজ্জিত/সলজ্জসচেষ্টিতচেষ্টিত/সচেষ্ট
সচিত্রিতচিত্রিত/ সচিত্রসশঙ্কিতশঙ্কিত/সশঙ্ক

৩. অপপ্রয়োগের কারণ যখন বিশেষ্য / দ্বিত্ব: কোনো বিশেষ্য পদের সাথে আবার/-তা/ অথবা -ত্ব / প্রত্যয় যুক্ত করা হলে, যে শব্দটি গঠিত হয় তা ভুল শব্দ। এ জাতীয় শব্দের প্রয়োগ ব্যাকরণসম্মত নয় বলে এগুলো অপপ্রয়োগ। যেমন-

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অপকর্ষতাঅপকর্ষঅপ্রতুলতাঅপ্রতুল
আব্রুতাআব্রুপ্রসারতাপ্রসার
মৌনতামৌনউৎকর্ষতাউৎকর্ষ/উৎকৃষ্টতা

৪. বিশেষণের সাথে দুইবার প্রত্যয় যোগ করার কারণে অপপ্রয়োগ: সাধারণত বিশেষণ পদের শেষে /-য/ অথবা /-তা/ প্রত্যয় যোগ করা হলে, বিশেষণ পদটি বিশেষ্য পদে রূপান্তরিত হয়; পুনরায় ওই বিশেষ পদের সাথে যদি আবার প্রত্যয় যোগ করা হয়, তাহলে অপপ্রয়োগ ঘটে। যেমন: 'দরিদ্র' একটি বিশেষণ পদ। 'দরিদ্র' শব্দের সঙ্গে /-য/প্রত্যয় যোগ করলে গঠিত হয় (দরিদ্র + য) দারিদ্র্য। 'দারিদ্র্য' একটি বিশেষ্য পদ। এবার 'দারিদ্র্য'র সাথে যদি /-তা/ যোগ করা হয়, তাহলে গঠিত হয় (দারিদ্র্য+তা) দারিদ্র্যতা। 'দারিদ্র্যতা' গঠনে একই সঙ্গে /-য/ এবং /-তা/প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার কারণে এটি অশুদ্ধ শব্দ। অপপ্রয়োগ ঘটেছে, এমন কিছু তথাকথিত শব্দের বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

যেমন-

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

আতিশয্যতাআতিশয্যঐক্যতাঐক্য/একতা
কার্পণ্যতাকার্পণ্যগাম্ভীর্যতাগাম্ভীর্য
চাঞ্জল্যতাচাঞ্জল্যচাতুর্যতাচাতুর্য/চতুরতা
চাপল্যতাচাপল্যদারিদ্র্যতাদারিদ্র্য/দরিদ্রতা
বাহুল্যতাবাহুল্যদৈন্যতাদৈন্য/ দীনতা
ভারসাম্যতাভারসাম্যসখ্যতাসখ্য
সৌজন্যতাসৌজন্যসৌহার্দ্যতাসৌহার্দ্য

৫. সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ: কখনও কখনও বাংলায় কোনো কোনো শব্দে সমার্থবোধক একাধিক শব্দের প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। এ ধরনের প্রয়োগের ফলে শব্দ ব্যাকরণগতভাবে দূষিত হয়ে পড়ে। সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে সৃষ্ট অপপ্রয়োগের উদাহরণ হলো-

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশ্রুজলঅশ্রুআরক্তিমআরক্ত/রক্তিম
আয়ত্তাধীনআয়ত্ত/অধীনশুধুমাত্রশুধু / মাত্র
কদাপিওকদাপিকেবলমাত্রকেবল / মাত্র
সমূলসহসমূল / মূলসহবিবিধপ্রকারবিবিধ
সময়কালসময় / কালসুস্বাগতস্বাগত

৬. সন্ধিজাত শব্দে বানান ভুলের জন্য অপপ্রয়োগ: সন্ধিজাতশব্দে পাশাপাশি দুই বা তার চেয়ে বেশি ধ্বনি মিলিত হয়ে একটি ধ্বনিতে পরিণত হয়, কিন্তু এক্ষেত্রে ধ্বনিটি কী হবে, তা সন্ধির সূত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে কোনো রকম স্বাধীনতা গ্রহণ করা চলে না। আমরা অনেকেই সন্ধিজাত শব্দের বানান লেখার সময় বানানে স্বেচ্ছাচার করে থাকি, যার ফলে শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটে থাকে। যেমন-

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অদ্যবধিঅদ্যাবধিউপরোক্তউপর্যুক্ত
তরুছায়াতরুচ্ছায়াদুরাবস্থদুরবস্থা
দুরাদৃষ্টদুরদৃষ্টপ্রাত:রাশপ্রাতরাশ
বক্ষোপরিবক্ষ-উপরিবিপদোদ্ধারবিপদুদ্ধার
মুখছবিমুখচ্ছবি

৭. সমাসঘটিত শব্দে অপপ্রয়োগ: ব্যাসবাক্য থেকে সমস্তপদ যখন গঠিত হয়, তা সমাসের নিয়ম অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন রূপ লাভ করে। শব্দ গঠন অনুযায়ী ব্যাসবাক্য থেকে কখনও কখনও তা ভিন্নরূপ লাভ করে। যেমন: মহান যে মানব = 'মহানমানব' নয়- 'মহামানব'; জায়া ও পতি = ‘জায়াপতি’ নয়- 'দম্পতি'।

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অহোরাত্রিঅহোরাত্রঅহর্নিশিঅহর্নিশ
দিবারাত্রিদিবারাত্রনীরোগীনীরোগ
নিজ্ঞানীনির্জ্ঞাননির্বিরোধীনির্বিরোধ
নিরভিমানীনিরভিমানীনিরপরাধীনিরপরাধ
নির্দোষীনির্দোষদিনরাত্রদিনরাত্রি/দিবারাত্র
মধ্যরাত্রিমধ্যরাত্রসুবুদ্ধিমানসুবুদ্ধি

৮. প্রত্যয়ঘটিত অপপ্রয়োগ: প্রকৃতির সাথে প্রত্যয়যুক্ত হয়ে যখন শব্দ গঠিত হয়, তখন সংগত কারণেই তার বানানে কিছুটা বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। সচেতন না থাকলে এসব ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অধীনস্থঅধীনঅসহ্যনীয়অসহনীয়/অসহ্য
আবশ্যকীয়আবশ্যকএকত্রিতএকত্র
চোষ্যচূষ্যলব্ধপ্রতিষ্ঠিতলব্ধপ্রতিষ্ঠ
সাধ্যাতীতঅসাধ্যসত্বাসত্তা
স্বত্ত্বস্বত্বসম্ভ্রান্তশালীসম্ভ্রমশালী/সম্ভ্রান্ত
সিঞ্চনসেচনসিঞ্চিতসিক্ত

৯. উৎকর্ষবাচক- তর, তম প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ: উৎকর্ষবাচক শব্দ ব্যবহারে, আমরা কী রকম অজ্ঞানতার মধ্যে ডুবে আছি যেটি খুব অল্প কথায় ড. মাহবুবুল হক বিশ্লেষণ করেছেন। আমরা সরাসরি তাঁর বই থেকে একটি অংশ তুলে ধরছি: 'বাংলায় উৎকর্ষের সর্বাধিক্য বোঝাতে গুণবাচক শব্দের সঙ্গে /-ইষ্ঠ/ প্রত্যয় যুক্ত হয়। যেমন: কনিষ্ঠ, গরিষ্ঠ, জ্যেষ্ঠ, পাপিষ্ঠ্য, বলিষ্ঠ, লঘিষ্ঠ, শ্রেষ্ঠ ইত্যাদি। এসব শব্দের সঙ্গে ভুলবশত অনেকে দুইয়ের মধ্যে একের উৎকর্ষবাচক/-তর/এবং বহুর মধ্যে একের উৎকর্ষবাচক/-তম/ প্রত্যয় যুক্ত করে থাকেন। যেমন: কনিষ্ঠর/ কনিষ্ঠতম, বলিষ্ঠতম/ বলিষ্ঠতম, শ্রেষ্ঠতম ইত্যাদি। এরকম প্রয়োগ অশুদ্ধ।

১০. বহুল প্রচলিত বানানের প্রভাবে অপপ্রয়োগ: বাংলা বানানে বহুলপ্রচলিত শব্দগুলি তুলনামূলক কম প্রচলিত শব্দের বানানের ওপর প্রবল প্রভাব ফেলে। ফলে অপপ্রয়োগ দেখা যায়। কিছু উদাহরণ দেয়া হলো: 'ভূগোল' বানানে উ-কার আছে কিন্তু এর প্রভাবে 'ভূবন' বানানে উ-কার দেওয়া হলো, যা অপপ্রয়োগ। 'স্বাধীনতা' বানানের প্রভাবে যদি লেখা হয় 'স্বাধীকার' তাহলে অপপ্রয়োগ হবে। শুদ্ধ শব্দটি হচ্ছে সাধীকার। এরূপ 'বিবাদ' শুদ্ধ, কিন্তু 'বিবাদমান' শুদ্ধ নয়, শুদ্ধ প্রয়োগ করতে হলে ব্যবহার করতে হবে 'বিবদমান'।

১১. সমাসঘটিত শব্দের বানানে অশুদ্ধি: 'সমাস' (সম্- √অস্ +অ) শব্দের অর্থই হচ্ছে সংক্ষেপণ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, “পরস্পর অর্থ-সঙ্গতিবিশিষ্ট দুই বা বহু পদকে লইয়া একপদ করার নাম সমাস।”

ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, “একাধিক শব্দ একত্র জুড়িয়া একটি বৃহৎ শব্দ সৃষ্টি করাকে সমাস বলে।”

বাংলা একাডেমি প্রণীত ও প্রকাশিত "প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ" গ্রন্থে সমাসের সংজ্ঞার্থ নিরূপিত হয়েছে এভাবে: "সমাস অভিধানের শব্দ নির্মাণের একটি প্রক্রিয়া যাতে দুই বা তার চেয়ে বেশি শব্দ যুক্ত হয়ে একটি অখণ্ড শব্দ তৈরি করে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি সম্মিলিত ধারণা প্রকাশ করে।" সমাসবদ্ধ শব্দ তাই একত্রে লিখতে হয়- নতুবা অপপ্রয়োগ হবে। কিছু উদাহরণ হলো:

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

আপন জনআপনজনক্রয় ক্ষমতাক্রয়ক্ষমতা
জীবন ধারাজীবনধারাদৃঢ় প্রতিজ্ঞদৃঢ়প্রতিজ্ঞ
দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদৃষ্টিপ্রতিবন্ধীধর্ম ব্যবসায়ীধর্ম ব্যবসায়ী
বিপথ গামীবিপথগামীপ্রচার মাধ্যমপ্রচার মাধ্যম
পূর্ব প্রস্তুতিপূর্বপ্রস্তুতিপ্রবাস জীবনপ্রবাসজীবন
বাস্তব সম্মতবাস্তবসম্মতযুক্ত বিবৃতিযুক্তবিবৃতি
যুদ্ধ বিধ্বস্তযুদ্ধবিধ্বস্তমৎস্য সম্পদমৎস্যসম্পদ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অকাল প্রায়াতঅকালপ্রায়াত
অনন্য সাধারণঅনন্যসাধারণ
অনুমান নির্ভরঅনুমাননির্ভর
জমিদার বাড়িজমিদারবাড়ি
জীবন সংগ্রামজীবনসংগ্রাম
জীবন সঙ্গিনীজীবনসংগ্রাম
দল নিরপেক্ষেদলনিরপেক্ষে
নীতি নির্ধারকনীতিনির্ধারক
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াপার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বেকার সমস্যাবেকারসমস্যা
ব্যক্তি মালিকানাব্যক্তিমালিকানা
ভাব বিনিময়ভাববিনিময়
শোক সংবাদশোকসংবাদ
শিক্ষা ব্যবস্থাশিক্ষাব্যবস্থা
সমাজ সেবাসমাজসেবা
সমুদ্র সৈকতসমুদ্রসৈকত
সর্বজন শ্রদ্ধেয়সর্বজনশ্রদ্ধেয়
সাহায্য সংস্থাসাহায্যসংস্থা

১২. অর্থগত অপপ্রয়োগ: (সমোচ্চারিত ও প্রায়-সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দের অর্থপার্থক্যজনিত অপপ্রয়োগ)

প্রতিটি ভাষার শব্দ ভাণ্ডারে থাকে অজগ্র শব্দ, তবু থেকে যায় অনেক সীমাবদ্ধতা। ওই ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ তখন কখনও বানানে, কখনও উচ্চারণে কিছুটা রদবদল করে নতুন নতুন শব্দ সৃষ্টি করে তার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করে। অনেক সময় এত সব করেও তার প্রয়োজন মেটে না; তার প্রয়োজন পড়ে আরও অজস্র শব্দ। তখন একই বানানে, একই উচ্চারণে তারা ভিন্ন অর্থের ব্যঞ্জনা সৃষ্টি করে। এই তিনটি উপায়ে গঠিত শব্দসমূহ সমোচ্চারিত ও প্রায়-সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ হিসেবে পরিচিত। যেমন:

ক. যুগল: দিন: দিবস, দীন: দরিদ্র পরিবর্তন কেবল বানানে, উচ্চারণে কোনো পার্থক্য নেই।

খ. যুগল চুড়ি: অলংকার বিশেষ, চুরি: চৌর্যবৃত্তি (একটি অপরাধকর্ম) [পরিবর্তন একই সঙ্গে বানানে ও উচ্চারণে]

গ. যুগল চাল চাউল, চাল কৌশল বানান বা উচ্চারণে কোনো পার্থক্য ঘটছে না, অথচ ভিন্ন অর্থবোধক নতুন শব্দ সৃষ্টি হচ্ছে।। যেমন: আমাদের বাসায় আজ চাল নেই।

তোমার চাল ধরতে পারছি না।

বাংলা অভিধানে এমন অসংখ্য শব্দ রয়েছে যেগুলোর জন্য আমরা পদে পদে বিড়ম্বনার মুখোমুখি হই। বানান একই, অথচ অর্থের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।

Related Question

View All
  • মৌনব্রত
  • মাধুর্যতা
  • দৈন্যতা
  • দীনতা
  • কোনটিই নয়
19
  • আয়ত্তাধীন
  • অশ্রুজল
  • অধীনস্থ
  • একত্র
18
  • সশঙ্কিত
  • আকাঙ্খা
  • অত্যাধিক
  • শারিরীক
65
  • বাহুল্যতা
  • শুধুমাত্র
  • অশ্রুজল
  • নির্দোষ
56
  • বাগধারা জনিত
  • বানান জনিত
  • অর্থগত
  • বানান ও অর্থগত
87
Updated: 2 months ago
  • সন্ধিজনিত
  • বিভক্তিজনিত
  • প্রত্যয়জনিত
  • উপসর্গজনিত
71
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই